"শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ"

<<< পূর্বের দিনের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনঃ 682 MW " >>>
History of Ashuganj Power Station Company Ltd. (আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিঃ –এর ইতিহাস)

For a thermal Power Plant infrastructure facilities like river, transportation for heavy equipment (highway, railway and waterway), fuel sourcing (Gas networks) are mandatory. Considering the above mentioned facilities of “Ashuganj” an agreement was signed in 1966 with a foreign construction company to establish a Thermal Power Plant in Ashuganj. “Ashuganj” which is situated near to the Titas Gas field and at the bank of river Meghna was selected as the suitable space for establishing the largest power plant of the country at that time. Acquiring of 311 acre land of the north-east side of the Meghna Railway Bridge the construction work of Ashuganj Thermal Power Plant was started in 1966. With the financial assistance of the German Govt. two units of 128MW capacity was established. In 1968 the erection of main equipment was started and by July 1970 the two units were commissioned. At that time to establish another three units in future some facility was preserved. After the post liberation period Ashuganj Power Plant has played an important role in the reconstruction and economic development of the war stricken country, Bangladesh.

While plan was taken to increase the capacity of Ashuganj Power Plant to meet the increasing demand of electricity then M/S Lahmyer International from Germany investigated the possibility of expanding the power plant and recommended to establish three units (unit 3,4 & 5) having a capacity of 150 MW each.

For establishing these three units M/S Lahmyer International was appointed as the adviser. IDA, KFW (German Govt.), Kuwait and OPEC fund and ADB gave the financial support for establishing these three units. It should be mentioned that as financial support was given by different organization so supplies of different equipment was taken from different country. The turbo-generator part was supplied and established by M/S BBC from Germany (at present ABB) and boiler part was made by IHI from Japan and supplied and established by M/S Mitsui and Co. from Japan. Others main equipment was supplied and installed by M/S BBC (Germany), M/S IHI (Japan), M/S KDC (Korea) and M/S PCC (Korea). The 230KV Ashuganj-Ghorashal transmission line was established by M/S Lucky International (Korea).

These three units were commissioned on December, 1986 and May, 1987 successively. While the plan of establishing unit 3 and 4 was going on at the same time another decision was taken to establish a combined cycle plant in Ashuganj by British financial support. The total capacity of this combined cycle plant is 146MW, where two gas turbine units having 56MW capacity each and one steam turbine unit having a capacity of 34MW. The main equipment of this unit is made and established by GEC from England (at present ALSTOM, UK). As of the combined cycle plant GT-1, ST, and GT-2 unit were commissioned in 1982, 1984 and 1986 consecutively.

Main fuel used for this power plant is natural gas (mainly coming from Bakhrabad Gas Distribution Company Ltd.). For steam generation and cooling the required water is taken from Meghna River. Huge amount of water used for cooling is discharged to river through discharge canal of power plant. It should be mentioned that in dry season the water coming from discharge canal is used for irrigation of a huge area of Ashuganj with the help of a sluice gate. With this water 36,000 acre land is irrigated.

As a part of the Power Sector Development and Reform Program of the Government of Bangladesh (GOB) Ashuganj Power Station Company Ltd. (APSCL) has been incorporated under the Companies Act 1994 on 28 June 2000. The Registration No. of APSCL is 40630 (2328) / 2000. Ashuganj Power Station (APS) Complex (along with its Assets and Liabilities) had been transferred to the APSCL through a Provisional Vendor's Agreement signed between BPDB and APSCL on 22 May 2003. All the activities of the company started formally on 01 June 2003. From that day the overall activities of the Company along with operation, maintenance and development of the Power Station are vested upon a Management Team consisting of the Managing Director, the Executive Director (Engineering), Executive Director (P & P) & the Executive Director (Finance).

According to the Articles of Association of the Company, 99.99% of total shares is held by BPDB and the rest of the shares distributed among Ministry of Finance, Ministry of Planning, Power Division, MOPEMR & Energy Division, and MOPEMR of GOB.

To solve the huge deficient of electricity of the country, the Govt. planned to establish new plant on quick basis. According to the direction of the Govt. APSCL had taken a project of establishing a 50MW plant with self-finance in 2010. Accordingly for the completion of this project an agreement was signed with TSK, Spain (EPC) on 25th July 2010. This unit is commercially generating 53MW of electricity since 30th April 2011.

APSCL has undertaken 4 more projects (225MW CCPP, 450MW CCPP South, 450MW CCPP North, and 200MW Modular) since 2013. Among these 225MW CCPP project having 223MW of generation capacity were commissioned on 09 December 2015. 200MW Modular Plant having 195MW of generation capacity were commissioned on 08 May 2015. Ashuganj CCPP (South) project having 360MW of generation capacity is completed and commissioned on 18 June 2016. As a result, total generation capacity of APSCL has increased to 1401MW. 450MW CCPP (North) project will be completed by 2017.

তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা যেমনঃ নদী, ভারী সরঞ্জামাদি পরিবহন সুবিধা (সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথ), জ্বালানী উৎস(গ্যাস নেটওয়ার্ক) ইত্যাদি আবশ্যক। উপরোল্লিখিত সুবিধাসমূহ বিবেচনা করে “আশুগঞ্জ” -এ একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি বিদেশী নির্মাণ কোম্পানির সাথে ১৯৬৬ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। "আশুগঞ্জ" তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের কাছাকাছি এবং মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত বলে সে সময়ে দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। মেঘনা রেলসেতুর উত্তর-পূর্ব দিকের ৩১১ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। তখন জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় ১২৮ মেঃ ওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপিত হয়। ১৯৬৮ সালে প্রধান যন্ত্রপাতিসমূহের স্থাপন কাজ শুরু হয় এবং ১৯৭০ সালের জুলাই -এ ইউনিট দুটি চালু হয়। সে সময়ে ভবিষ্যতে অন্য আরও তিনটি ইউনিট স্থাপনের জন্য কিছু সুবিধা সংরক্ষিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

পরবর্তীতে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করা হয়। জার্মানির মেসার্স Lahmyer International বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা শেষে প্রতিটি ১৫০ মেঃ ওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি ইউনিট (ইউনিট ৩, ৪ ও ৫) স্থাপনের পক্ষে মত প্রদান করে।

এই তিনটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য মেসার্স Lahmyer International আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হয়। IDA, KFW (German Govt.), কুয়েত, OPEC তহবিল ও ADB এই তিনটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এখানে উল্লেক্ষ্য যে, যেহেতু আর্থিক সহায়তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত ছিল সেহেতু ভিন্ন ভিন্ন সরঞ্জাম ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে নেওয়া হয়। Turbo - জেনারেটরের অংশ সরবরাহ ও স্থাপন করে জার্মানির মেসার্স BBC(বর্তমান ABB) এবং বয়লার অংশ জাপানের IHI কোম্পনীর তৈরি এবং সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ করে জাপানের মেসার্স Mitsui and Co. অন্যান্য প্রধান যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং স্থাপন করে মেসার্স BBC(জার্মানি), মেসার্স IHI (জাপান) মেসার্স KDC (কোরিয়া) এবং মেসার্স PCC (কোরিয়া)। মেসার্স Lucky International (কোরিয়া) ২৩০KV আশুগঞ্জ-ঘোড়াশাল সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ করে।

এই তিনটি ইউনিট পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বর, ১৯৮৬ এবং মে, ১৯৮৭ -এ চালু করা হয়। ইউনিট ৩,৪ স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করার সময়েই ব্রিটিশ আর্থিক সহায়তা দ্বারা একটি কম্বাইন্ড সাইকেল প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫৬ মেঃ ওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি গ্যাস টারবাইন এবং ৩৪ মেঃ ওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি স্টীম টার্বাইন নিয়ে গঠিত এই কম্বাইন্ড সাইকেল প্ল্যান্ট -এর মোট ক্ষমতা ছিল ১৪৬ মেঃ ওঃ । ইউনিটটির প্রধান যন্ত্রপাতি তৈরি এবং স্থাপনার কাজ করে ইংল্যান্ডের GEC কোম্পানী (বর্তমান ALSTOM,UK)। কম্বাইন্ড সাইকেল প্ল্যান্টটির জিটি-১, এসটি এবং জিটি-২ ইউনিট সমূহ পর্যায়ক্রমে ১৯৮২, ১৯৮৪ এবং ১৯৮৬ সালে চালু হয়।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান জ্বালানী প্রাকৃতিক গ্যাস (প্রধানত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ কর্তৃক সরবরাহকৃত)। বাষ্প তৈরি এবং শীতলীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পানি মেঘনা নদী থেকে নেওয়া হয়। শীতলীকরণের জন্য ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডিসচার্জ চ্যানেল দিয়ে নদীতে ছাড়া হয়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেক্ষ্য যে, শুষ্ক মৌসুমে ডিসচার্জ চ্যানেলের পানি একটি স্লুইস গেট –এর সাহায্যে আশুগঞ্জ- এর বিশাল এলাকার (প্রায় ৩৬,০০০ একর জমি) সেচের জন্য ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎখাত উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) ২৮ জুন ২০০০ তারিখে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ –এর অধীনে নিবন্ধিত হয়। এপিএসসিএল –এর নিবন্ধন নং ৪০৬৩০ (২৩২৮)/২০০০।

২২ মে, ২০০৩ তারিখে বিপিডিবি এবং এপিএসসিএল এর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সাময়িক বিক্রেতা চুক্তির মাধ্যমে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন (এপিএস) কমপ্লেক্স (সম্পদ ও দায় সহ) -কে এপিএসসিএল -এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ০১ জুন ২০০৩ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পনীর সকল কার্যক্রম শুরু হয় এবং পাওয়ার স্টেশনের অপারেশন, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম সহ কোম্পানীর সামগ্রিক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল), নির্বাহী পরিচালক (পি এন্ড পি) ও নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) এর সমন্বয়ে গঠিত ম্যানেজমেন্ট টিম এর উপর ন্যস্ত করা হয়।

কোম্পানির আর্টিক্যালস্‌ অব এসোসিয়েশন অনুযায়ী মোট শেয়ারের ৯৯.৯৯% বিপিডিবি এবং অবশিষ্ট শেয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এনার্জী ডিভিশন এর মধ্যে বিতরণ করা হয়।

সরকার বিদ্যুতের বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১০ সালে এপিএসসিএল সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ মেঃ ওঃ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করার প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২৫ জুলাই ২০১০ তারিখে এপিএসসিএল TSK, স্পেন (ইপিসি) –এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে। ৩০ এপ্রিল ২০১১ তারিখ থেকে বাণিজ্যিকভাবে তা থেকে ৫৩ মেঃ ওঃ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

এপিএসসিএল ২০১৩ সালের পর আরও ৪টি প্রকল্পের (২২৫মেঃওঃ সিসিপিপি, ৪৫০মেঃওঃ সিসিপিপি সাউথ, ৪৫০মেঃওঃ সিসিপিপি নর্থ ও ২০০মেঃওঃ মডিউলার) কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে ২২৩ মেঃওঃ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২২৫মেঃওঃ সিসিপিপি প্রকল্পটি ০৯ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখ থেকে বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়। ৯১৫ মেঃওঃ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২০০ মেঃওঃ মডিউলার প্রকল্প ০৮ মে ২০১৫ তারিখ থেকে বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়। ৩৬০ মেঃওঃ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আশুগঞ্জ সিসিপিপি (সাউথ) প্রকল্পটির কাজও সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই তারিখে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়। এর ফলে এপিএসসিএল –এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৪০১মেঃওঃ। ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ৪৫০মেঃওঃ সিসিপিপি নর্থ প্রকল্পটিও সম্পন্ন হবে।